নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছে।”
মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি জানি না।”
এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলকে চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে হাজির করার সময় গাজী নজরুল ও মাকছুদার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। পরে কাঠগড়ায় নেওয়ার পর সেগুলো খুলে দেওয়া হয়।
শুনানির সময় দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মাকছুদাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন দেখা যায়। তিনি দুই হাতের ওপর মাথা রাখেন। পরে গাজী নজরুল তার কাছে জানতে চান, তার খারাপ লাগছে কি না। মাকছুদা নেতিবাচক উত্তর দেন। এ সময় নজরুল তার হিজাব ঠিক করে নিতে বলেন।
শুনানি চলাকালে মাকছুদাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন দেখা গেলেও গাজী নজরুলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন বলে আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান।