নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ ধরনের মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার শিশু আদালতের সামনে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের দাফন-কাফনের জন্য এক লাখ এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলাম আপসের বিষয়টি স্বীকার করলেও কত টাকায় আপস হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে তার মামা জানেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। তার মতে, সড়ক পরিবহন আইনের এই মামলা আপসযোগ্য নয়।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদীকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরদিন মেহেদীর ভাই গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও গাড়ির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকার শিশু আদালত-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তদন্তে এর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং তারা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।