নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বড় করার পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে আরও ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ। চলতি বছরে দুই দফায় করা ক্রয়চুক্তিতে এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্সের তিনটি সংস্করণ।
সর্বশেষ চুক্তিতে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই তালিকায় রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। ফলে দুই চুক্তি মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫টি।
আগের চুক্তির ১৪টি উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করার কথা। এসব উড়োজাহাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের চূড়ান্ত দাম ও সরবরাহের সময় এখনও জানানো হয়নি। তবে আগের তালিকামূল্য বিবেচনায় এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে।
বোয়িংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স যুক্ত হলে বিমানের বিদ্যমান বহরের সঙ্গে উড়োজাহাজগুলোর পরিচালনাগত সামঞ্জস্য বাড়বে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার তুলনামূলক বড় ও প্রশস্ত কাঠামোর উড়োজাহাজ। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স একক-আইল বা সরু কাঠামোর বিমান, যা স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী। বিমানের পরিকল্পনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহারের কথা রয়েছে।
বিমানের বর্তমান বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ এইট কিউ৪০০। নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের আকার ৪৪টিতে পৌঁছানোর কথা, যার ৩৯টিই হবে বোয়িং।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৮ সালে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল, যেগুলো ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হয়।
চলতি বছরের নতুন ক্রয়চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা আরও বড় আকার পেল। বোয়িংও বলছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts