নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না’—এমন মন্তব্য করলে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাঁড়িয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য হয়ে জামায়াত করা ‘ডাবল অপরাধ’। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও ৫ অগাস্টের আন্দোলনের তুলনা টেনে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের তুলনা করা অন্যায়।
তার বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তারা বক্তব্যটিকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সবাইকে সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কারও ব্যক্তিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা অনুচিত। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদের পরিবেশ নষ্ট করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে আঘাত হানে।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা এবং আল বদর বাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্পিকার বলেন, কোনো বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মতবিরোধ থাকলেও তা যুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন করা উচিত, হট্টগোলের মাধ্যমে নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সংসদে মাঝে মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রেখে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংসদে এ ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts