নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কক্সবাজার সরকারি কলেজের দুই শিক্ষক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের একাংশের বাধা, বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা কার্যত ক্লাসের বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল আলম এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক চক্রবর্তী। তাদের দাবি, কলেজে গেলেই সংঘবদ্ধভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এমনকি এক পর্যায়ে কক্ষে আটকে রাখা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ, রাজনৈতিক পক্ষপাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখন পর্যন্ত বিভাগীয় তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মফিজুল হক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শিক্ষককে কলেজে আসতে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ ডেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া কলেজ প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনগত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, ‘মব’ তৈরি করে কাউকে লাঞ্ছিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সাবেক এক নেতা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্দোলন হয়েছে। তবে শিক্ষক নিয়োগ বা অপসারণের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন বর্তমান ছাত্রশিবির নেতারা।
এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান বা দুই শিক্ষকের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মতো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কলেজজুড়ে আলোচনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।