
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনরা এই হামলাকে ‘নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকের মরদেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেককে গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, হামলার শিকার হওয়া ‘ওমিদ ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল’ ছিল একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, যেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পাকিস্তান যদিও দাবি করেছে, সেখানে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ছিল। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হামলায় নিহত মিরওয়াইসের বোন মাসুদা বলেন, তার ভাইয়ের শরীরের কেবল একটি অংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চিকিৎসাধীন মানুষদের কেন হত্যা করা হলো?”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হামলায় হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। হতাহতের বেশিরভাগই ছিলেন চিকিৎসাধীন রোগী ও হাসপাতালের কর্মচারী।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তালেবান সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
স্বজনদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি মূল্য