নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে আছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল বন্ধ থাকায় জাহাজটি বারবার চেষ্টা করেও গন্তব্যে যেতে পারেনি। এতে জাহাজে থাকা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
জাহাজটির অন্তত এক ডজন নাবিক ইতোমধ্যে দেশে ফেরার আবেদন করেছেন। তাদের অনেকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো বদলি ক্রু পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো তাদের আটকে থাকা জাহাজে নতুন ক্রু পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও বাংলাদেশি নাবিকদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনির্দিষ্টকাল এভাবে সমুদ্রে থাকতে পারি না। নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।”
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে নোঙর করা জাহাজটিতে সীমিত পানি ও খাদ্য নিয়ে দিন পার করছেন নাবিকরা। পানির ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। জাহাজে এখন প্রায় এক মাসের পানির মজুত রয়েছে।
নাবিকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দৃশ্য দেখতে দেখতে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে। তারা বলছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণেই জাহাজটি এখনো নিরাপদে বের হতে পারছে না।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, নাবিক ও জাহাজকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়া ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ও এর নাবিকদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts