নিউজ প্রবাসী ডেস্ক
উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও সহজ করতে নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন ব্যবস্থায় আলাদা অ্যাপ চালু না করেই কোপাইলটের সঙ্গে কথা বলা, কমান্ডের মাধ্যমে কম্পিউটারের বিভিন্ন সেটিংস পরিবর্তন এবং ফাইল খুঁজে পাওয়ার মতো কাজ করা যাবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইন্ডোজ ১১-এর টাস্কবারের সার্চ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে সেখানে চ্যাটবটের সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি শরতেই এ পরিবর্তন চালুর কাজ শুরু হবে।
সম্প্রতি মাইক্রোসফটের সারফেসবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে নতুন সার্চ ইন্টারফেইসের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পাভান দাভুলুরি। তাঁর প্রদর্শনীতে দেখা যায়, সার্চ মেনু থেকেই ডার্ক মোড ও ‘ডু নট ডিস্টার্ব’-এর মতো সেটিংস চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হবে। একই জায়গা থেকে কোপাইলট অ্যাপ না খুলেও এআই সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
মাইক্রোসফটের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ইন্টারফেইসটি আগের তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই অ্যাপ, সেটিংস ও প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজে নিতে পারবেন। সার্চ বক্সে ‘ইনক্রিজ মাইক ভলিউম’ লিখলে সেখানে সরাসরি ভলিউম নিয়ন্ত্রণের স্লাইডার দেখা যাবে।
এ ছাড়া উইন্ডোজ কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত ফোন ব্যবহার করে টাস্কবার থেকেই বার্তা পাঠানোর সুবিধাও থাকবে। এতে মেসেজ পাঠাতে প্রতিবার ফোন হাতে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
দাভুলুরি বলেন, এআইকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের অংশ করতে হলে সেটিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে মানুষ নিয়মিত কাজ করে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন জানাবেন এবং অনুমতি নিয়ে উইন্ডোজ কম্পিউটার তাঁদের হয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করবে।
এদিকে, মাইক্রোসফট ‘হাইব্রিড ইন্টেলিজেন্স’ নামে নতুন কিছু সফটওয়্যার টুলও ঘোষণা করেছে। এসব টুলের সাহায্যে ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই এআই মডেল চালানো যাবে। এ ব্যবস্থার আওতায় কোপাইলট ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে থাকা ফাইলের সঙ্গে কাজ করতে এবং বিভিন্ন অ্যাপ ও সেটিংস পরিচালনায় সহায়তা করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জটিল কাজের ক্ষেত্রে কোপাইলট আগের মতোই ক্লাউডভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ ব্যবহার করবে। তবে যেসব কাজে তথ্যের গোপনীয়তা বা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে কম্পিউটারে স্থানীয়ভাবে চলা এআই মডেল কাজে লাগানো হবে।
নতুন প্রযুক্তি মাইক্রোসফটের ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘অটোপাইলট’-এর সক্ষমতাও বাড়াবে। এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে সংরক্ষিত ফাইল খুঁজে বের করা এবং সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
মাইক্রোসফটের প্রদর্শনীতে দেখা যায়, অটোপাইলট একজন কর্মীকে করসংক্রান্ত নথি গুছিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। স্থানীয় এআই মডেল ব্যবহার করে এটি প্রয়োজনীয় ফাইল শনাক্ত করে, সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে, জিপ ফাইল তৈরি করে এবং হিসাবরক্ষকের কাছে পাঠানোর জন্য ইমেইলের খসড়া প্রস্তুত করে।
এ প্রক্রিয়ায় তথ্য ক্লাউডে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘হাইব্রিড ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তিনির্ভর কোপাইলটের নতুন সুবিধাগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোতে চালু করা হবে।