নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পৃথিবী থেকে ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এক ভিনগ্রহের অস্বাভাবিক কক্ষপথ নিয়ে বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ‘জিজে ৩০৯০ বি’ নামের এই গ্রহটি নিজের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে তারার ঘূর্ণনের বিপরীত দিকে। গবেষকদের মতে, গ্রহটির এমন অস্বাভাবিক গতিপথ প্রচলিত গ্রহ গঠনের ধারণাকে নতুন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
২০২২ সালে আবিষ্কৃত সাব-নেপচুন শ্রেণির এই গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বড় এবং প্রায় সাড়ে চার গুণ ভারী। এর কক্ষপথের ‘সাই’ কোণ ১৩৬ ডিগ্রি। অর্থাৎ এটি শুধু হেলে থাকা কক্ষপথে নেই, বরং নক্ষত্রটির ঘূর্ণনের বিপরীতমুখী হয়ে প্রদক্ষিণ করছে।
সাধারণত নবজাতক নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার চাকতি থেকে গ্রহের সৃষ্টি হয়। ওই চাকতি যে দিকে ঘোরে, গ্রহগুলোরও সাধারণত একই দিকে এবং প্রায় একই সমতলে ঘোরার কথা। গ্রহের কক্ষপথ ও নক্ষত্রের ঘূর্ণন সমতলের মধ্যকার কোণকেই ‘সাই’ বলা হয়। পৃথিবীর ক্ষেত্রে এ কোণ প্রায় ৭ ডিগ্রি।
চিলির লা সিলা অবজারভেটরির এনআইআরপিএস ইনফ্রারেড যন্ত্র ব্যবহার করে গ্রহটির কক্ষপথের এই অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন গবেষকরা। মহাবিশ্বে ৭০ ডিগ্রির বেশি ‘সাই’ কোণ থাকা গ্রহের সংখ্যা খুব বেশি নয়।
সাধারণত কোনো বড় সহচর গ্রহ, বাদামী বামন বা অন্য কোনো নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে গ্রহের কক্ষপথ এভাবে হেলে বা বিপরীতমুখী হতে পারে। কিন্তু ‘জিজে ৩০৯০ বি’র ক্ষেত্রে এমন কোনো বড় সহচর বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের একটি ধারণা, নক্ষত্রটি অতীতে ভিন্নমুখী আরেকটি গ্যাস-ধূলির চাকতি নিজের মধ্যে টেনে নিয়েছিল। সেই ভিন্নমুখী চাকতি থেকেই গ্রহটির জন্ম হয়ে থাকতে পারে। তবে এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।