নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর নকলের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান। তার মতে, প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও কণ্ঠস্বর কপি করে ব্যবহার করা এক ধরনের চুরি। এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আইটিভি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ৮৯ বছর বয়সী এই অস্কারজয়ী অভিনেতা। জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর অনুকরণ এবং ডিপফেইক তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
ফ্রিম্যান বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, কিন্তু কারও অনুমতি ছাড়া তার কণ্ঠস্বর নকল করা হলে সেটি চুরির পর্যায়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে এআইনির্ভর কনটেন্ট বা ডিপফেইকের উৎস শনাক্ত করা সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনলাইনে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ায় কোনটি কোথা থেকে তৈরি হয়েছে, তা খুঁজে বের করা অনেক সময় জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগেও নিজের কণ্ঠস্বর এআই দিয়ে নকল করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ফ্রিম্যান। এ ধরনের ঘটনায় তার আইনজীবীদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্লুজ সংগীতের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ফ্রিম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির ক্লার্কসডেলে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামের একটি ব্লুজ ক্লাবের সহ-মালিক তিনি। এলাকাটিতে ব্লুজ সংগীতের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা গড়ে তোলার উদ্যোগ থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।
সম্প্রতি ব্রিটিশ ‘চিনেকি অর্কেস্ট্রা’র সঙ্গে যৌথভাবে একটি অ্যালবামও প্রযোজনা করেছেন তিনি। অ্যালবামটি গ্র্যামি পুরস্কার পেলে সেটিকে নিজের ক্যারিয়ারের আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখবেন বলে জানান ফ্রিম্যান।
ব্লুজ সংগীত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই ধারাকে ব্যথা, ক্ষতি ও আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০২৫ সালের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘সিনার্স’-এ ব্লুজ সংগীতের ব্যবহারকেও তিনি এ ধারার জনপ্রিয়তা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার পান ফ্রিম্যান। ‘ড্রাইভিং মিস ডেইজি’ ও ‘ইনভিকটাস’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।