নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। আজ ১১ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

মামলাটিতে বর্তমানে চার আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২৫ আগস্ট তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেও অন্যরা আত্মসমর্পণ করেননি। গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা এবং হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহযোগিতার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই আজকের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts