নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানের পর তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার সব থানায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও জেলার প্রতিটি থানার আওতাধীন যেসব স্থানে বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের পূর্বের কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর কথাও জানান তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিম হত্যার পর জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিশেষ অভিযান চালানো হলো।
এদিকে অভিযানের মধ্যে দাউদকান্দি থানায় আটক ১৭ জনের একটি দল কক্ষের দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে আবার থানায় নিয়ে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, একই কক্ষে অনেক মানুষকে রাখার কারণে সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করায় বিষয়টি জানতে সাধারণ মানুষ থানায় ভিড় করেছিল। এ সময় সৃষ্ট হট্টগোলের সুযোগে ওই ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।