নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
সাজেকে সড়ক অবরোধ চলাকালে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আধাবেলার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন অবরোধকারীরা।
অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জেলার নয়টি উপজেলাতেও যানবাহন চলাচল তুলনামূলক কম ছিল।
সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইল্ল্যাছড়ি, পানছড়ি সড়ক ও সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দেন। পুলিশ জানায়, সকালে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পিকেটারদের সরে যেতে দেখা যায়।
অবরোধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। মাগুরা থেকে মারিশ্যা যাওয়ার উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়িতে আসা ব্যবসায়ী মো. বায়েজিদ জানান, অবরোধের কারণে গন্তব্যে যাওয়ার কোনো গাড়ি পাচ্ছিলেন না তিনি। এতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরাও জরুরি প্রয়োজনে মাটিরাঙা যেতে না পেরে সমস্যায় পড়েন। তিনি বলেন, এ ধরনের অবরোধ চান না তাঁরা; এলাকার মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান।
এদিকে সাজেকে ভ্রমণে যেতে না পেরে কয়েক দিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন পর্যটক দেওয়ান ঐশী। বুধবার সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ি শহরে আসেন তিনি। সাজেক বন্ধ থাকায় রাঙামাটি ঘুরে আবার খাগড়াছড়িতে ফিরে আসেন। পরে নতুন করে অবরোধ শুরু হওয়ায় তাঁর ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অবরোধ শেষ হলে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কায় কিসলু বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। চেঙ্গী স্কয়ার, স্বনির্ভর, জিরো মাইল ও আলুটিলাসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের দুটি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা থেকে আসা রাতের বাসগুলোও পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়িতে আনা হয়েছে।
অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।