নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন চর ও নদীর পাড়ে সন্ধ্যা নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্জন এলাকায় ‘ফরডাবুর-ছয়গুটি’ নামে জুয়া চলছে। পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন ও বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ফরিদপুর ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খোদাবক্স গ্রামের খরকার দিঘির দক্ষিণ পাড়, দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের নদীর বাঁধের পূর্ব পাশের চর, ধাপেরহাট ইউনিয়নের বকসীগঞ্জ হাইস্কুলের পেছনে নলেয়া নদীর পাড় এবং ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর সংলগ্ন মাঝিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে এসব জুয়ার আসর বসে।
সন্ধ্যার পর থেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে জুয়াড়িরা এসব এলাকায় জড়ো হন। কোনো কোনো জায়গায় ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে জুয়ার ব্যবস্থা করায় বৃষ্টি হলেও আসর বন্ধ হয় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, খোলা মাঠ, নদীর চর ও নির্জন এলাকায় জুয়ার আসর বসায় পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তবে জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার পাশাপাশি এসব আসরে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনাও ঘটে। জুয়ায় টাকা হারিয়ে অনেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবার খেলায় ফিরছেন। এতে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে বলেও দাবি তাদের।
জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও স্কুলশিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, জামুডাঙ্গা গ্রামের ঘাঘট নদীর বাঁধের পূর্ব পাশের চরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছে। তার অভিযোগ, এতে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে গবাদিপশু ও ঘরবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করছেন।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাফুজার রহমান মাফু জানান, খরকার দিঘির জুয়ার আসর বন্ধে তিনি একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে স্থায়ীভাবে জুয়া বন্ধ হয়নি।
বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, জুয়ার আসর নিয়ে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব আসরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি সফিউল ইসলাম স্বপনের মতে, জুয়ার কারণে ব্যবসায়ী ও কৃষক পরিবারের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। উঠতি বয়সী যুবক ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জুয়া ও মাদকের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, চরাঞ্চলে রাতের জুয়ার আসর ও মাদক কারবার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।