নিউজ প্রবাসী ডেক্স::
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি।
শুক্রবার বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও নয় হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, সরকার তাদের তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না।
পাটওয়ারীর ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা পুলিশের বক্তব্য জানতে চাইলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাকেই জিজ্ঞাসা করা উচিত। তবে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, দেড় কেজি সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল টেপ ও ১১টি কালো টেপ এবং কাগজের তৈরি নয় হাজার মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের জন্য সেগুলো তার বাসায় রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইমনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts