প্রযুক্তি ডেক্স :
মানুষের চিন্তাভাবনা মূলত চার ধরনের—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, কেউ বিশ্ব ও সামাজিক নানা সমস্যা নিয়ে বেশি ভাবেন, কেউ সংসার ও অর্থকড়ির হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আবার কেউ নিজের শরীর ও মন নিয়ে বেশি চিন্তা করেন। আরেকদল কাজের পাশাপাশি শখ ও বিনোদনকে গুরুত্ব দেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেয়ারমন্ট গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি ও চীনের উহান ইউনিভার্সিটির একদল অর্থনীতিবিদ এ গবেষণা করেন। মানুষের সচেতন মন কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য ১৯ থেকে ৭১ বছর বয়সী ২৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আটবার এলোমেলো সময়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়। সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই মুহূর্তে কী ভাবছিলেন, কী করছিলেন এবং কতটা আনন্দিত ছিলেন—এসব তথ্য অ্যাপে জানান। পরে ২৩ হাজারের বেশি তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের প্রায় অর্ধেক চিন্তা ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাকি চিন্তাগুলো অন্য কোনো ভাবনার সূত্র ধরে অনিচ্ছাকৃতভাবে মাথায় আসে। শারীরিক অনুভূতি ও মানসিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা মোট ভাবনার প্রায় ২০ শতাংশ। কাজ নিয়ে ১৭ শতাংশ এবং খাবার নিয়ে ১৪ শতাংশ চিন্তা করেন মানুষ। শখ, খেলাধুলা, শিল্পকলা ও বিনোদন এবং সম্পর্ক নিয়ে চিন্তার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ করে।
গবেষকেরা মানুষের চিন্তাভাবনাকে চারটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
প্রথমত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত চিন্তাবিদ। এ ধরনের মানুষ বিশ্ব পরিস্থিতি, রাজনীতি, যুদ্ধ, মহামারি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি চিন্তা করেন। মানসিক চাপ কমাতে তারা গান শোনার কথাও তুলনামূলক বেশি ভাবেন।
দ্বিতীয়ত, সংসারকেন্দ্রিক চিন্তাবিদ। তারা গৃহস্থালির কাজ, বাসাবাড়ি, অর্থকড়ির হিসাব এবং বই, সিনেমা বা টেলিভিশনের গল্প নিয়ে বেশি ভাবেন। তাদের চিন্তায় সমাধান, প্রক্রিয়া, বিতর্ক ও নথিপত্রের মতো বিষয় বেশি উঠে আসে।
তৃতীয়ত, শরীর ও মনকেন্দ্রিক চিন্তাবিদ। তারা নিজেদের অনুভূতি, শরীর এবং মানসিক অবস্থার দিকে বেশি মনোযোগ দেন। এ দলের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত চিন্তার হারও বেশি দেখা গেছে।
চতুর্থত, ‘ওয়ার্ক-হার্ড, প্লে-হার্ড’ বা কাজ ও বিনোদনের ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তাবিদ। তারা কাজের পাশাপাশি শখ, খেলাধুলা ও শিল্পকলার মতো বিনোদনমূলক বিষয়েও বেশি সময় দেন। গবেষণায় এ দলের মানুষের আয় ও আনন্দের মাত্রা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা বলছেন, মানুষের মন প্রায় কখনোই পুরোপুরি চিন্তাশূন্য থাকে না। গবেষণায় মাত্র প্রায় এক শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট মুহূর্তে তাদের মাথায় কোনো চিন্তা ছিল না।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই চার ধরনের শ্রেণিবিন্যাসকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে একজন মানুষ এক ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে অন্য ধরনের চিন্তাভাবনায় চলে যেতে পারেন। এ ফলাফল আরও নিশ্চিত করতে বৃহত্তর পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts