নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
চট্টগ্রামে ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার। সহকর্মী এএসআই হিরণ মিয়ার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোক ও হতবিহ্বলতায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
রোববার রাতে চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই হিরণ মিয়ার নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল। সে সময় তিন যুবককে সন্দেহজনকভাবে আসতে দেখে তাদের থামার সংকেত দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কনস্টেবল আল আমিন তাকে ধরতে মোটরসাইকেলে করে পিছু নেন।
এএসআই হিরণ মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া যুবকের কোমরে ধারালো অস্ত্রের মতো কিছু দেখা যাচ্ছিল। সরকারি মোটরসাইকেলে আল আমিন তাকে নিয়ে ওই যুবকের পিছু নেন। পরে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের মাঠে ঢুকে পড়লে আল আমিন মোটরসাইকেল থামিয়ে হিরণ মিয়াকে নামিয়ে দেন এবং একাই তাকে ধরতে এগিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পরই সড়কে চিৎকার শুনতে পান হিরণ মিয়া। বাইরে এসে দেখতে পান, একটি বাস কনস্টেবল আল আমিনকে চাপা দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন বাসটি থামিয়ে আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন।
হিরণ মিয়া বলেন, আল আমিন তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে না দিলে তিনিও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতেন। সহকর্মীর মৃত্যুর কথা মনে করে এখনও স্বাভাবিক হতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
আহত অবস্থায় আল আমিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াসা মোড় থেকে ইস্পাহানি মোড়ের দিকে মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করার সময় জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেইটের কাছে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস পেছন থেকে আল আমিনকে ধাক্কা দেয়। বাসটি তাকে প্রায় ১০০ ফুট টেনে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর বাসের চালক মোশারফ হোসেন ও সহকারী জয় দাশকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আল আমিন সরদার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দেন তিনি। তার বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী এলাকায়।
সহকর্মীকে হারিয়ে এএসআই হিরণ মিয়া বলেন, তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা আল আমিনের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।