নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলের বরফ, হিমবাহ ও পাহাড়ি শিলাস্তর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে হিমবাহ ধস, ভূমিধস এবং আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, একটি বিশাল হিমশিলা ও পাথরের অংশ ধসে নদীতে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তবে এই বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ ও শিলার বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হিমবাহ দ্রুত গলছে, বাড়ছে গলিত পানির প্রবাহ এবং পরিবর্তিত হচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরন। ফলে পাহাড়ি ঢালগুলো আরও নড়বড়ে হয়ে ধসের ঝুঁকিতে পড়ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয় ও হিন্দুকুশ অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহের হ্রদ ভেঙে বন্যা এবং তুষারধসের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণ যুক্ত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অবকাঠামো রক্ষায় এসব পর্যায়ক্রমিক ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং আগাম প্রস্তুতি ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts