
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে তেল আমদানিতে খরচ হয়েছে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট আমদানি ব্যয়ের ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ায় এই ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। তাই ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, চলতি অর্থবছর শেষে জ্বালানি তেল আমদানিতে মোট ব্যয় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বালানি তেলের বাড়তি আমদানি ব্যয় সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে। এতে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।