নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, বিচারপ্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে আইনের শাসন দুর্বল হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে পাঠানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় রয়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে কাউকে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত বা ইচ্ছেমতো আনা অভিযোগের মাধ্যমে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সুযোগ তৈরি না হয়, সে জন্য বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এক ডজনের বেশি মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। এসব মামলায় যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, কিছু মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে একই ধরনের বর্ণনা হুবহু ব্যবহারের মতো বিষয়ও দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল ছয়টি বিচার শেষ করেছে। এসব মামলায় ৬২ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের বিচার হয়েছে অনুপস্থিতিতে এবং ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার আইনে এখনো প্রসিকিউটরদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আটকের কারণ লিখিতভাবে না জানিয়েও দীর্ঘ সময় আটকে রাখার সুযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সীমাবদ্ধতা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার চলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সাক্ষীদের জেরার সুযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এর আগে ১৪ মে দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির দাবি, গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে তারা।
এইচআরডব্লিউ বলছে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও যথাযথ আইনি অধিকার ও সুরক্ষা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts