নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

চুয়াডাঙ্গায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিঘাপ্রতি চাষের ব্যয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।
মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মুখে এখন তেমন হাসি নেই। কারণ, ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে বাড়তি সেচ, কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। কৃষকদের মতে, জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় বাড়ায় পুরো মৌসুমের হিসাবই বদলে গেছে।
দামুড়হুদা উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, ধানের ভালো ফলনের জন্য এখনো কয়েক দফা সেচ প্রয়োজন। কিন্তু বাড়তি খরচের কারণে সেই সেচ দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যেখানে সেচ ব্যয় ছিল কম, এখন তা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
এদিকে শুধু দামই নয়, অনেক এলাকায় ডিজেল পাওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেচ দিতে না পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের আরও দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। মৌসুম শেষে লাভের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও বাড়তি খরচে সেই হিসাব এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কিছু প্রভাব পড়লেও উৎপাদন পুরোপুরি ব্যাহত হবে না। তবে কৃষক সংগঠনগুলোর মতে, এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারেও পড়বে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে।
জেলায় এবার ব্যাপক পরিসরে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফসল কাটার মৌসুম সামনে। তবে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়লে কৃষকদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts