নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, দান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শহরের ঐতিহাসিক য়ংড বৌদ্ধ বিহার ও ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক দায়ক-দায়িকা ও পুণ্যার্থী অংশ নেন।

এ বছর ঐতিহাসিক য়ংড বৌদ্ধ বিহারে ১২১তম এবং ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারে ৩২তম কঠিন চীবর দানোৎসব পালিত হয়েছে। সকাল থেকে দুই বিহারেই শুরু হয় নানা ধর্মীয় আয়োজন। বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল গ্রহণ, কল্পতরু দান ও ধর্মসভার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে চলে।

য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ১২১তম কঠিন চীবর দানোৎসবে সভাপতিত্ব করেন অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ মিহিন্দা মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা।

অন্যদিকে, ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের ৩২তম উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও শিষ্য সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এ সময় ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের অধ্যক্ষ ভদ্দজী মহাথেরোসহ বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মসভায় ভিক্ষুসংঘ কঠিন চীবর দানের ধর্মীয় তাৎপর্য এবং বৌদ্ধধর্মে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কঠিন চীবর দান কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমে ত্যাগ, সংযম, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে।

দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনটি শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts