নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার মামলায় দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। তবে আপিল গ্রহণ করলেও তার জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে।
বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে বিদিশার আপিলের শুনানি হয়। আদালত আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
বিদিশার পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বিদিশার নারী হওয়া এবং তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
বিদিশার আইনজীবী মাহমুদুল কবির জানান, সাজার বিরুদ্ধে তাদের আপিল আদালত গ্রহণ করেছেন। তবে জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষ থেকে আপিলের শর্তে জামিন চাওয়া হয়। আদালত সেই আবেদনও নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলাটি করা হয়েছিল ২০০৮ সালে। বাদী মোশাররফ হোসেন সিকদারের অভিযোগ, ২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে বিদিশা তার কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হলেও ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়।
বিদিশার আইনজীবীরা বলছেন, তারা উচ্চ আদালতে গিয়ে সাজার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাইবেন।