নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকা ৬৩৯ জন
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫০ জনে পৌঁছেছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগের পর মঙ্গলবারও দুর্গম এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভারী যন্ত্রপাতি, খননযন্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও ৬৩৯ জন আটকা রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাতে তারা অস্থায়ী সেতুও নির্মাণ করছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির প্রাথমিক হিসাবে, দুর্যোগে প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এসব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২৭৯ জন কর্মীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার এক বাসিন্দা জানান, আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে তারা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাননি। বর্তমানে অনেকেই আশ্রয়ের জন্য পায়ে হেঁটে নিকটবর্তী শহরগুলোতে যাচ্ছেন।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছেছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে।