নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত কম—এমন বাস্তবতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, দেশের মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ নারী হলেও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোটের হিসাবে নারীরা শক্তিশালী হলেও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি নগণ্য।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ন্যাশনাল মাল্টি-স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব অ্যা জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম থাকার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক মানসিকতা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবার থেকেই অনেক সময় নারীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহ দেওয়া হয় না।
নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নারীর সংখ্যা বাড়লে প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়বে। দলগুলোতে নারী কর্মীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো গেলে নারী প্রার্থীর মনোনয়নও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি খারাপ নয় এবং রাজনীতিতে ভালো মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি—এই বার্তা পরিবার ও সমাজে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারীর অধিকার ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মশালায় তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব রাখলেও পরিবার থেকে তাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণের তথ্য তুলে ধরে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ১৮ জন নারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাও ছিলেন নারী।
ইউএন উইমেন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।