নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশনের অনুমোদিত প্রথম মামলায় পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জাল কাগজপত্র তৈরি করে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হচ্ছে।
রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমানের নামে ওই ঋণ অনুমোদন করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তার নামে ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী মমিনুর রহমানের সংশ্লিষ্টতাও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে ব্যাংকটির গুলশান সাউথ এভিনিউ ও বসুন্ধরা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক, ক্রেডিট ইনচার্জ, ম্যানেজার অপারেশন এবং প্রধান কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা রয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধান নথিতে বলা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অভিযোগকারীর নামে নিজেরাই ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালে অভিযোগটির অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের মানিলন্ডারিং বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। তার অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন মামলার অনুমোদন দেয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধে সহায়তা, জাল দলিল তৈরি ও জাল দলিল ব্যবহারের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৭ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই নতুন কমিশনের অনুমোদিত প্রথম মামলা। ১৬৬ দিন পর নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মাথায় মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়।