নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু করার কথা ভাবছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষাগুলো শেষ হলে জানুয়ারির দিকে ইউপি ভোট শুরু করা যেতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; তফসিল ঘোষণার সময়ই নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
এর আগে ইসির প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনায় প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে করার কথা বলা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে করার কথা ছিল।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর ইসির ভোটের সময় নিয়ে পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইউপি ভোটের সময় পেছানোর ক্ষেত্রে কোনো সরকারি চাপ নেই। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সময় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।
তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে একই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এ কারণে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে ভোট শুরুর চিন্তা করা হচ্ছে।
ইসি জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ভোট শুরু করতে হলে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সে হিসাবে নভেম্বরেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোজা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউপির ভোট কয়েক ধাপে আয়োজন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও কমিশনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইসি জানিয়েছিল, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করে শেষ ধাপ আগামী বছরের ২৭ মে রাখার কথা বলা হয়েছিল। এখন নতুন পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সম্ভাব্য সময়ের কথা বলা হলেও কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরই ইউপি নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি স্পষ্ট হবে।