নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে শতাধিক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক চিঠি দিয়েছে এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট গত বুধবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তদন্তের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগের মালিকানা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হিসাব স্থগিতের নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর করে সর্বশেষ স্থিতি ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন পাঠাতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
সিআইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। দুই ইউনিটের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১২৫টি কোম্পানি তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রয়োজনে এ তালিকা আরও বড় হতে পারে।
তদন্তের তালিকায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা টিপু মুনশি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক শাহরিয়ার আলমের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাবেক রাজনৈতিক নেতার নাম তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এসএম মান্নান কচির নামও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারাগারে রয়েছেন, আত্মগোপনে আছেন অথবা দেশের বাইরে চলে গেছেন।
এদিকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের সময় সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এনবিআরের আর্থিক তদন্ত ও ব্যাংক হিসাব স্থগিতের উদ্যোগ সামনে এলো।