নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে। উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী।

৭৮ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার বৃহস্পতিবার ঢাকায় মারা যান। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জীবনের শেষ সময় ছেলের সঙ্গে ঢাকায় কাটাচ্ছিলেন।

ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা বেজে যায়। এরপর গার্ড অব অনারের জন্য প্রশাসনের অপেক্ষায় থাকেন স্বজনেরা। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ না আসায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই তাঁকে দাফন করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্না ইসলামকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। রাত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, ভাইকে শেষ সম্মান জানিয়ে বিদায় দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁদের। দীর্ঘ নয় মাস অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা একজন মুক্তিযোদ্ধা শেষ বিদায়ে প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় তাঁরা ব্যথিত।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি অন্তত উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের ব্যবস্থা করতে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছিলেন। তবে ইউএনও মুন্না ইসলাম তাঁকে জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, তিনি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়া দাফনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ সদস্যদের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ লাইন্স থেকে বিউগল বাজানোর দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ এককভাবে গার্ড অব অনার দিতে পারেনি।

অন্যদিকে ইউএনও মুন্নী ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা না পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts