আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফোনে অবৈধভাবে আড়িপাতার অভিযোগে দেশটির চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোওসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। নজরদারির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ফোনও যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত মঙ্গলবার চিফ অব স্টাফ লিসতিও এবং পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মাত্র এক মাস আগে প্রেসিডেন্ট তাকে চিফ অব স্টাফ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে ওই পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো আদালতের পরোয়ানা কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই পুলিশের বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে লিসতিও জাতীয় পুলিশপ্রধান থাকাকালে এ নজরদারি শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নজরদারির মাধ্যমে এমন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। সে কারণে ঘটনাটিকে রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটিতে এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড।
বৃহস্পতিবার রাতে অপরাধ তদন্ত ইউনিটের কর্মকর্তা সালামেত উলিয়ান্তিকে এ মামলার চতুর্থ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাকে আটক করা হয়নি। এখন পর্যন্ত নজরদারির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘিরে ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে উইদোদোর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন প্রাবোও। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে একাধিক রদবদল, সাবেক প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং নুসানতারা নতুন রাজধানী প্রকল্পে আগ্রহ কম দেখানোর মতো বিষয় দুই নেতার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের গবেষক মেদে সুপ্রিয়াতমার মতে, লিসতিও সাবেক প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার গ্রেপ্তার দুই পক্ষের সম্পর্কের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পুলিশপ্রধান সুয়ুদি আরিও সেতো বলেছেন, গ্রেপ্তারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি আইন প্রয়োগের অংশ।
এর আগে ২০১৪ সালে জাকার্তার গভর্নর থাকাকালে জোকো উইদোদোর সরকারি বাসভবনে একাধিক আড়িপাতার যন্ত্র পাওয়া গিয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট মেঘবতী সুকর্ণপুত্রীও ২০২৪ সালে নজরদারির আশঙ্কায় ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচির তহবিল সংকট, দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি, শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা চাপে রয়েছে প্রাবোও সরকার। এসব ইস্যুতে দেশটিতে বিক্ষোভও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার ঘটনা সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।