
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে বড় বড় প্রতিশ্রুতির আভাস মিললেও বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তার মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জরুরি খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘ইনসাইড আউট’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি, শিক্ষা, সড়ক মেরামত ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত না করে বড় প্রকল্পের দিকে ঝুঁকে পড়া সমীচীন হবে না।
জাহিদ হোসেনের মতে, সরকার যে বড় আকারের বাজেটের পরিকল্পনা করছে, তা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিলেও এর অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, বৈদেশিক অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গত চার বছর ধরে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের চাপে রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরেনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়, গ্যাস সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশই বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল শর্ত। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো ছাড়া বড় বিনিয়োগ আসবে না।
অর্থনীতিবিদের মতে, আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ। কারণ দেশের ইতিহাসে কখনও অর্জিত হয়নি এমন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা বাস্তবায়ন ব্যর্থতার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং বাজেট ঘাটতি আরও বাড়াবে।
তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক সংকটের অজুহাতে পিছিয়ে পড়াকে গ্রহণযোগ্য বলা যাবে না। বরং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অর্থনীতিকে সচল রাখা, প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় নিশ্চিত করা এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণই হওয়া উচিত সরকারের মূল লক্ষ্য।