নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
আশ্বিনের শুরুতেই উত্তর আন্দামান সাগর ও আশপাশের এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার দুপুরে বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে তা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য লঘুচাপটির গতিপথ ভারতের ওড়িশার দিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান তিনি। এর প্রভাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পর বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
এদিকে গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক কুয়াশা দেখা গেছে। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পর একটি বৃষ্টির পর্ব শেষ হওয়ায় এমন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এই সাময়িক কুয়াশা কেটে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া আরিচায় ১০৬, নারায়ণগঞ্জে ৯৩, রাজশাহীর বাঘাবাড়িতে ৬১, মোংলায় ৫৫ এবং ঢাকায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।