নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের কণ্ঠে ‘উচ্ছ্বাসের’ সুর ছিল বলে দাবি করেছেন ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেন্সার। তাঁর দাবি, বোনের মৃত্যুর শোকের চেয়ে চার্লসের মনে প্রেমিকা ক্যামিলা পার্কার বোলসকে বিয়ে করার পথ সহজ হওয়ার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল।
শিগগির প্রকাশিত হতে যাওয়া স্পেন্সারের আত্মজীবনীমূলক বই ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’-এর নতুন অংশে এসব দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বইটির ওই অংশ প্রকাশিত হয়।
স্পেন্সার লিখেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর চার্লসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। তখন চার্লসের কণ্ঠ শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি যেন বেশ ‘উচ্ছ্বসিত’ ছিলেন।
তবে চার্লসের এমন প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে স্পেন্সার নিজের ধারণার কথাই উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ডায়ানাকে হারানোর অনুশোচনার চেয়ে ক্যামিলাকে বিয়ে করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার বিষয়টি চার্লসের মনে বেশি প্রভাব ফেলেছিল।
বইটির প্রথম অংশ প্রকাশের পর সাধারণত রাজপরিবার এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য না করলেও এবার ব্যতিক্রমীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। বুধবার প্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেন, রাজা এ বিষয়ে সচেতন যে একজন ভাইয়ের শোক তাঁর বিচারবোধ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বহু বছর পরও সেই অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে ভিন্নভাবে প্রতীয়মান হতে পারে।
বইটির নতুন অংশে ডায়ানার মানসিক সংকটের কথাও উঠে এসেছে। স্পেন্সারের দাবি, দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ডায়ানা একাধিকবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের ‘বিচি হেড’-এ গাড়ি চালিয়ে যেতেন। জায়গাটি আত্মহত্যার ঘটনার জন্য পরিচিত হলেও দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারির প্রতি ভালোবাসা তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখত বলে স্পেন্সার দাবি করেছেন।
চার্লস ও ডায়ানা দীর্ঘদিনের দাম্পত্য টানাপোড়েনের পর ১৯৯২ সালে আলাদা হয়ে যান। ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর এক বছর আগে, ১৯৯৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারে ডায়ানা চার্লস ও ক্যামিলার সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন, তাদের বিবাহিত জীবনে ‘তিনজন’ থাকায় জায়গাটি কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
১৯৯৭ সালে প্যারিসে পাপারাজ্জিদের তাড়া থেকে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে মারা যান ডায়ানা। পরে ২০০৫ সালে ক্যামিলাকে বিয়ে করেন চার্লস।