
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বিদ্যুতের দাম এখনো বাড়ানো হয়নি। যখন বাড়ানো হবে তখন জানানো হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের জন্য তিনটি পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৪০ পয়সা। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে লাইফলাইন গ্রাহকদের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) জন্য মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে গ্যাস, তেল ও কয়লার আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ট্যারিফ বহাল থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাড়ছে লোডশেডিং। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হবে এবং গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।