নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার মতে, এতে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হার বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের আর্থিক চাপ কমবে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক নীতি-আলোচনায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যেখানে সম্ভব সেখানে বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়ে সরকার ভাবছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারে, তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাত পরিচালনা করলে জবাবদিহিতা ও বিল আদায় আরও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশের জ্বালানি খাতের সংকট নিয়েও কথা বলেন। তার দাবি, গত ১৭ বছরে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন না হওয়ায় বর্তমানে দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এলএনজি আমদানির সীমিত অবকাঠামো এবং একটি ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব শিল্প ও আবাসিক খাতেও পড়ছে।
খুলনা অঞ্চলের কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
আলোচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বঙ্গোপসাগরে নতুন অনুসন্ধান জোরদার না করলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, গ্যাসের সংকটের কারণে শত শত নতুন গ্রাহক সংযোগের অপেক্ষায় থাকলেও তাদের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে শিল্প খাতে গ্যাসের ঘাটতির কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ বিতরণে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।