নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি ও মাঝনদীতে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত নির্দেশনা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
গত ৭ সেপ্টেম্বর পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রো-রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’ মাঝ পদ্মায় তীব্র স্রোতের মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে। ফেরিটির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সেটি আর স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারেনি। একপর্যায়ে স্রোতের টানে ফেরিটি প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভেসে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর অন্য নৌযানের সহায়তায় ফেরিটিকে উদ্ধার করে পাটুরিয়া ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।
ফেরিতে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, মাঝনদীতে কোনো দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটলে কীভাবে নিরাপদে বের হতে হবে, কোথায় লাইফ জ্যাকেট পাওয়া যাবে কিংবা পানিতে পড়ে গেলে কী করণীয়—এসব বিষয়ে যাত্রীদের আগে থেকে জানানো হয় না।
মাগুরা থেকে আসা যাত্রী গফুর মোল্লা বলেন, ফেরিতে ওঠার সময় বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাঝনদীতে বিপদে পড়লে কী করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না। জরুরি পরিস্থিতিতে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের পদ্ধতিও অনেক যাত্রীর জানা নেই।
আরেক যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, মাঝ পদ্মায় কিংবা ঘাটের কাছাকাছি ফেরির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে। এতে দীর্ঘ সময় ফেরিতে আটকে থাকতে হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফেরিতে ওঠার আগেই জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে যাত্রীদের জানানো উচিত বলেও তিনি মত দেন।
ফেরির মাস্টার মো. নাসির উদ্দিন জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’ ফেরির হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে যাওয়ায় সেটি ঘাটে পৌঁছাতে পারেনি। পরে স্রোতের টানে ফেরিটি ভেসে যায় এবং অন্য একটি জাহাজের সহায়তায় সেটিকে ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। তার মতে, ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি পরীক্ষা জরুরি।
তবে দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারে। আরিচা ও ফরিদপুরে থাকা ডুবুরি দলও প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকেও ডুবুরি আনার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোর ফিটনেস ও সার্ভে সনদ রয়েছে এবং সনদধারী নাবিকরা সেগুলো পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts