নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কক্সবাজারের টেকনাফে পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দাকে পানির জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে খাল ও পাহাড়ি ছড়ার ওপর। বর্ষায় জনপ্রতি দিনে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পানি মিললেও শুকনো মৌসুমে তা নেমে আসে ১৫ লিটারে, কোনো কোনো সময়ে আরও কমে যায়।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের এই সীমিত পানিতেই রান্না, পান করা, গোসল ও পরিচ্ছন্নতার কাজ সারতে হয়। ফলে পানি কমে গেলে প্রয়োজনের মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করেই চলতে হয় তাদের। বাসিন্দা সৈয়দ আমিনের ভাষায়, পানি সংকটের সময় রান্না করলে গোসলের সুযোগ থাকে না, আবার গোসল করলে রান্নার পানি সংকটে পড়ে।
ক্যাম্প-২২-এর পানি সরবরাহের প্রধান উৎস একটি খাল। শুষ্ক মৌসুমে খাল শুকিয়ে গেলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের মির্জা ছড়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি আনা হয়। এরপর একটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পানি পরিশোধন করে ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পে ১০৭টি ট্যাপস্ট্যান্ডের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি পান। সাধারণত সকাল ও বিকেলে দুই দফায় পানি সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দাদের জন্যও রয়েছে তিনটি ট্যাপস্ট্যান্ড, যেখান থেকে প্রায় ৭০০ মানুষ পানি পান।
টেকনাফের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও মাটির পাথুরে গঠনের কারণে গভীর নলকূপ স্থাপন করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া কঠিন। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, পুরো উখিয়া ও টেকনাফে পানির সংকট থাকলেও টেকনাফে তা বেশি প্রকট। এ কারণে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
পানি সংকটের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও। কর্মকর্তাদের মতে, রোহিঙ্গা influx-এর পর বিপুলসংখ্যক নলকূপ স্থাপনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠছে।
তবে কিছু এলাকায় পানি সরবরাহে বিকল্প উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। টেকনাফের কানজর পাড়ায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ও পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চারশ বাসিন্দাকে পানি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবস্থাপনায় ওই পাম্প পরিচালিত হচ্ছে।
টেকনাফের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে বড় একটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পাইপলাইনভিত্তিক পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি চালু হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি সামাল দিতে পানি পুনর্ব্যবহারের প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, ফিল্টার পরিষ্কারের পর যে ব্যাকওয়াশ পানি তৈরি হয়, তা পরিশোধন করে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সীমিত পানির উৎস থেকে অতিরিক্ত পানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।