নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর সংবেদনশীল তথ্য চুরির পর ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে একটি হ্যাকার দল। ফাঁস হওয়া নথিতে কর্মীদের ইমেইল, ফোন নম্বর ও অফিসের ঠিকানার পাশাপাশি সংস্থাটির গোপন এবং নজরদারিসংক্রান্ত কার্যক্রমের তথ্যও রয়েছে।
ওয়্যার্ড, ওয়াশিংটন পোস্ট ও এনপিআরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তথ্য ফাঁসের ফলে বিভাগটির মোট জনবলের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ কর্মীর ব্যক্তিগত বিবরণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার রেকর্ড মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মীদের এবং ১০ হাজার রেকর্ড ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মীদের বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আইসিইর অপরাধ তদন্ত শাখা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
হ্যাকারদের ক্ষোভের কারণ
‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচয় দেওয়া হ্যাকার দলটি এক বিবৃতিতে আইসিইর কার্যক্রম এবং মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে প্রশাসনের অবস্থানের প্রতিবাদ হিসেবেই এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্য ও হিউস্টনে দুই ব্যক্তিকে গুলি করার ঘটনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের পর এ বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে ওই দুই ব্যক্তির কাউকেই আইসিইর সরাসরি আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে তথ্য চুরি হলো
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ব্যবহৃত একক সাইন-অন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অকটার মাধ্যমে তথ্য চুরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তির সাহায্যে কর্মীরা একবার লগইন করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিস্টেম, ক্লাউড সেবা ও অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশ করতে পারেন।
তবে অকটা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব তথ্য বা সিস্টেমে অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঠিক কীভাবে তথ্যগুলো চুরি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হ্যাকার দলটি সংগৃহীত তথ্য ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ নামের একটি অলাভজনক সংগঠন এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এক সাইবার নিরাপত্তা গবেষকের কাছে পাঠিয়েছে। পরে এসব তথ্য নিয়ে ‘আইসপিক’ নামে একটি অনলাইন অনুসন্ধানযোগ্য ডেটাবেইস তৈরি করা হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্টের ভাষ্য, নথিগুলোতে গোপন ও নজরদারি কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে অভিবাসন ও বহিষ্কার কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
তদন্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করছেন। কর্মীদের বিরুদ্ধে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি সংবেদনশীল কার্যক্রমসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি তথ্য সুরক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের পুরো পরিধি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তদন্তের ফল না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।