নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চৌ কিট মার্কেট এলাকায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ২০ বাংলাদেশিসহ ১৮১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জালান রাজা বট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল ও বারনামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, অভিযানে মোট ৫১২ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের মধ্যে ১৮১ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান এবং পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪৭ জন ইন্দোনেশিয়ার, ২০ জন বাংলাদেশের, পাঁচজন নেপালের, তিনজন ভারতের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের আরও পাঁচজন রয়েছেন। আটক সবাইকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বুকিত জলিল অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানে কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ অংশ নেয়।
লোকমান এফেন্দি জানান, রাজা বট মার্কেট মালয়েশিয়ার চিহ্নিত ২২৪টি অভিবাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার একটি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে চলতি বছর ওই এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালানো হয়েছে। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা দিলে স্থানীয় নাগরিকদেরও আইনের আওতায় আনা হতে পারে।
তবে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, আইন লঙ্ঘনকারীদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।