নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হয়েছে পারিবারিক ও আইনি জটিলতা। মায়ের দাবি, ধর্মান্তরের পর শুভ মুসলিম পরিচয়ে ছিলেন, তাই তাকে ইসলামী রীতিতে দাফন করতে হবে। অন্যদিকে জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়ায় বাবা চান সনাতন রীতি অনুযায়ী তার দাহ সম্পন্ন হোক।
দুই পক্ষের ভিন্ন দাবির কারণে হত্যার ছয় দিন পরও শুভর মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি। আপাতত মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী মরদেহটি ঢামেকের হিমাগারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এর আগে প্রায় ৯২ ঘণ্টা মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে ছিল।
গত শনিবার ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্যে জানা যায়, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা পার্বতী দাসের ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। পরে পার্বতী সন্তানদের নিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে আয়েশা বেগম নাম নেন। সে সময় শুভর নাম রাখা হয় রায় বিল্লাল।
পরবর্তী সময়ে শুভ আলাদাভাবে বসবাস করতেন এবং মুসলিম এক নারীকে বিয়ে করেন। স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তান নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় থাকতেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলামের ভাষ্য, শুভর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম হরি চন্দ্র দাস থাকলেও ধর্মান্তরের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো হলফনামা করা হয়নি। এসব বিষয়ই তার শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে শুভর ভাই ইব্রাহিমের দাবি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তারা দুই ভাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং শুভকে মুসলিম রীতিতেই দাফন করা উচিত।
শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস মরদেহ দাহের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে মায়ের পক্ষ থেকেও হাই কোর্টে যাওয়া হয়েছে। ফলে শুভর মরদেহ দাফন নাকি দাহ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।