নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সংগঠনটির সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখাবয়বসংবলিত রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উঙ্গলি তো উঠেগি—রাবণ দহন’ শীর্ষক ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাবণের প্রতিকৃতিতে মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও শিল্পপতি গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বিজেপির কয়েকজন নেতার ছবি যুক্ত করা হয়েছিল।

আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনে কারচুপি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট, জাতীয় সম্পদের অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো বিভিন্ন ইস্যুর প্রতিবাদ জানাতেই এ আয়োজন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

এনএসইউআইয়ের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এ দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ছাত্রসংগঠনটি।

সংগঠনটির জাতীয় গণমাধ্যমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রবি পান্ডে বলেন, বিজয়া দশমী অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক। সেই প্রতীকী তাৎপর্য সামনে রেখে ভোটসংক্রান্ত অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংবিধান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

এনএসইউআইয়ের দিল্লি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অখিলেশ যাদব বলেন, সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করাই ছিল কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সাংবিধানিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ প্রতীকী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধী ছাত্রসংগঠনটির অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। তবে কর্মসূচিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আয়োজক সংগঠনের বক্তব্য হিসেবে বিবেচ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts