যাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তাঁদের আর ফিরে আসার পথ থাকে না। ন্যূনতম সাহস ও নৈতিকতা থাকলে তাঁরা পালিয়ে না গিয়ে এ দেশেই আইনের মুখোমুখি হতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

গত রবিবার (১৯ জুলাই) উত্তরার ‘মীর মুগ্ধ মঞ্চে’ আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তরাকে গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গত গণঅভ্যুত্থানে প্রতিরোধের মূল দুর্গ ছিল এই উত্তরা। ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের কোনো অপচেষ্টা চালানো হলে, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ এই উত্তরার মাটি থেকেই গড়ে তোলা হবে। আমরা উত্তরার এই ঐতিহাসিক অবদানকে কখনো ভুলে যাবো না।”

নিজের ওপর নেমে আসা অতীতের রাষ্ট্রীয় নির্যাতন স্মরণ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে স্বৈরাচারী হাসিনার বাহিনী আমাকে গুম করেছিল। সেদিন আমার মতো অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছিল। আজ দুই বছর পর আমাদের একটাই জোরালো দাবি—স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। যদি এই অপরাধীদের বিচার না হয়, তবে দেশে আবারও নতুন কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেন আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন না দেখে, সেজন্যই আমরা রাজপথে এই বিচারের দাবি তুলছি।”

জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বাস্তবায়নে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে বিএনপি এখন বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নিজেদের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা ভুলে গেছে এবং এখন ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক ছলচাতুরি বন্ধ করে জনগণের গণরায়ের ভিত্তিতে তৈরি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। দেশের সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপিকে নিজেদের রাজনৈতিক চিন্তা সংশোধন করতে হবে।”

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু আমি বলতে চাই, যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর বুলেটের আঘাত হানে, তাদের নির্বিচারে হত্যা করে, সেই খুনী প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনো সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।”

এ সময় উত্তরাকে সব ধরনের চাঁদাবাজি ও মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য ও আহত বীর যোদ্ধারা।

— নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ প্রবাসী

About Author
newsprobasi@gmail.com
View All Articles
Check latest article from this author !
আশুলিয়ায় বন্ধ ঘরে দম্পতি ও নবজাতকের মরদেহ, হত্যার সন্দেহ পুলিশের
জনগণের অধিকার নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ হলে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর ঢাকা প্রতিনিধি: জনগণের অধিকার হরণ করা হলে দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে জনগণও তার জবাব দেবে। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করেছে জামায়াত জোট। সকাল ৭টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতিঝিলে সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাধা-বিপত্তি এলেও লং মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলন এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট চারটি বিভাগীয় শহর অভিমুখে ধারাবাহিক লং মার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জোটটি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটার কথা।

জনগণের অধিকার নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ হলে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর ঢাকা প্রতিনিধি: জনগণের অধিকার হরণ করা হলে দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে জনগণও তার জবাব দেবে। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করেছে জামায়াত জোট। সকাল ৭টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতিঝিলে সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাধা-বিপত্তি এলেও লং মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলন এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট চারটি বিভাগীয় শহর অভিমুখে ধারাবাহিক লং মার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জোটটি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটার কথা।

September 4, 2026
কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ: ৬ জন গ্রেপ্তারের পর শতাধিক বিদেশি নাগরিকের খোঁজে পুলিশ

Related Posts