এক মাসের ব্যবধানে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আবারও বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রোববার দুপুর থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটির ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ব্রাউজার দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে গেলেই দেখা দিচ্ছে বিপত্তি।

বিভ্রাটের সময় ব্রাউজারের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ‘অ্যাকাউন্ট টেমপোরারিলি আনঅ্যাভেইলেবল’ (অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে) শীর্ষক একটি নোটিশ। সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, সাইট-সংক্রান্ত কারিগরি সমস্যার দরুন সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাচ্ছে না এবং গ্রাহকদের কিছুক্ষণ পর পুনরায় চেষ্টা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কম্পিউটার বা ব্রাউজার সংস্করণে এই বিপর্যয় দেখা দিলেও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফেসবুকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল।

ইন্টারনেটের সার্বিক অবস্থা ও বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ডাউনডিটেক্টর’ ও ‘ইজডাউন’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রোববার দুপুর সোয়া ১টা থেকে এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। কেবল বাংলাদেশই নয়; যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপিন্সসহ বিশ্বের বহু দেশের ব্যবহারকারীরা একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। এদিকে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার আরেক জনপ্রিয় অ্যাপ ইনস্টাগ্রামেও অনেকে সাময়িক বিভ্রাটের অভিযোগ তুললেও মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপের সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই সিস্টেম ডাউন হওয়ার কারণে ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে যায়। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের বিষয়ে ফেসবুকের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে দেখানো যান্ত্রিক ত্রুটির বার্তার বাইরে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এই সংকটের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি।

— নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ প্রবাসী

About Author
newsprobasi@gmail.com
View All Articles
Check latest article from this author !
মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবলের লড়াই, হুদা জগমোহনপুরে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি টুর্নামেন্ট
আশুলিয়ায় বন্ধ ঘরে দম্পতি ও নবজাতকের মরদেহ, হত্যার সন্দেহ পুলিশের
জনগণের অধিকার নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ হলে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর ঢাকা প্রতিনিধি: জনগণের অধিকার হরণ করা হলে দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে জনগণও তার জবাব দেবে। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করেছে জামায়াত জোট। সকাল ৭টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতিঝিলে সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাধা-বিপত্তি এলেও লং মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলন এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট চারটি বিভাগীয় শহর অভিমুখে ধারাবাহিক লং মার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জোটটি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটার কথা।

জনগণের অধিকার নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ হলে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর ঢাকা প্রতিনিধি: জনগণের অধিকার হরণ করা হলে দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে জনগণও তার জবাব দেবে। জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করেছে জামায়াত জোট। সকাল ৭টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতিঝিলে সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাধা-বিপত্তি এলেও লং মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলন এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট চারটি বিভাগীয় শহর অভিমুখে ধারাবাহিক লং মার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জোটটি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটার কথা।

September 4, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts