
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তার জন্য ২০২৬ সালে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল আহ্বান করেছে জাতিসংঘ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো। বুধবার প্রকাশিত যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি)-তে বলা হয়, এই অর্থের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
জাতিসংঘ জানায়, এবারের আবেদন গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম হলেও এটি কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। পরিকল্পনায় খাদ্য সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এছাড়া বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন খাতেও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ফলে শরণার্থীরা দীর্ঘমেয়াদে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ ও কমে আসা আন্তর্জাতিক সহায়তার কারণে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি হাই কমিশনার কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, সম্পদ কমে আসলেও রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখো রোহিঙ্গা। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।