
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাত মাসের শিশু তাজিমের ছোট্ট শরীর এখন লড়ছে হামের জটিলতার সঙ্গে। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার বাবা মো. আসলাম। তিন দিনেই চিকিৎসা ও ওষুধে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আর একটি ইনজেকশনের দামই ১৫ হাজার টাকা হওয়ায় সন্তানকে বাঁচাতে এখন জমি বিক্রির চিন্তা করছেন এই প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক বাবা।
গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার মাঝবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে তাজিমের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আসলাম বলেন, “ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। যা সঞ্চয় ছিল, সব শেষ। ধার-দেনাও করতে হয়েছে। এখন ডাক্তার বলছে আরো ইনজেকশন লাগবে। এত টাকা কোথায় পাবো বুঝতে পারছি না।”
চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়। শিশুর ওজন অনুযায়ী দুই থেকে ছয়টি পর্যন্ত ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রতিটির দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
তাজিমের মা হাসনা হেনা বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছুই করার নেই।”
চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ আর সন্তানের জীবন সংকটে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারটি এখন সমাজের সহায়তার প্রত্যাশা করছে।