নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ হিসেবে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পরিকল্পনাটি পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে নির্ধারিত সময়ের হিসাব শুরু হবে এবং সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রস্তাবটির বিস্তারিত সব শর্ত প্রকাশ করেননি আরাঘচি। তবে ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোর সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার মিল রয়েছে। ওই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার পথ তৈরির বিষয় ছিল।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন সামরিক চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন প্রস্তাবেও এসব বিষয়ের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরিকল্পনায় যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের সময়সীমার শেষ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, সামরিক চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহারসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় এগোনো কঠিন।
এর আগে ১৭ জুনের সমঝোতায় ৬০ দিনের একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজ চলাচল করলেও যুদ্ধঝুঁকি ও বীমা ব্যয়ের কারণে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এর পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রস্তাব সামনে আসার পর তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে সাত দিনের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের শর্ত নিয়ে সমঝোতার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, আর ইরানও তাদের প্রস্তাবের মূল শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।