ঢাকা প্রতিনিধি :
সাভারে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। প্রায় দেড় বছর আগে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এখন মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে বুধবার।
ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সরওয়ার আলমের আদালতে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাসান আলী বিষয়টি জানিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ মে সাভারে ছুরিকাঘাতে ওই ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার দিনই নিহতের প্রথম পক্ষের ছেলে সাভার মডেল থানায় তাঁর সৎ বোনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ওই মেয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেনের তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগই হত্যাকাণ্ডের প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে মেয়েটি তদন্তে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে হত্যার পরিকল্পনার যে অভিযোগ করেছিলেন, তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়, মেয়েটির মা মারা যাওয়ার পর পাঁচ বছর বয়স থেকে তিনি খালা ও নানির কাছে বড় হন। পরে তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা তাঁকে নাটোরে নিজের কাছে নিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেন মেয়েটি।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর নাটোরের একটি থানায় বাবার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। এরপর বাবা মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সাভারের একটি বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে আগের মামলা প্রত্যাহার করা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার রাতে মেয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবাকে খাওয়ান। রাত ৩টার দিকে তিনি বাবার কক্ষে গিয়ে শীলপাটা ও ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে একটি পেনড্রাইভ খুঁজছিলেন তিনি, যেখানে নিজের নির্যাতনের ভিডিও রয়েছে বলে তাঁর ধারণা ছিল।
পরে পাশের ভাড়াটিয়াকে ঘটনাটি জানানো হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে হেফাজতে নেয়।
এদিকে নিহতের ছেলে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জীবিত অবস্থায় তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউ করেননি। তিনি আরও বলেন, আগের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। বাবাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল হাসান তুষার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আইনি সুযোগগুলো ব্যবহার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অব্যাহতির আবেদন করা হবে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ গঠনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত। অভিযোগ গঠন হলে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts