সিলেট প্রতিনিধি।।

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবীও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বনাথের ছাবাল শাহ মাজারে গানের অনুষ্ঠান শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
নিহত পেহেলী ভৈরবী কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বাবার সঙ্গে বিশ্বনাথের রামপাশা এলাকার ছাবাল শাহ মাজারে গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে গান পরিবেশন শেষে ভোরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
মাজারের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সোহেল আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পেহেলী ভৈরবী বাবার সঙ্গে মাজারে আসেন। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিল্পীদের নিয়ে গানের আয়োজন করা হয়। পরে তারা গাড়িতে করে সিলেটের দিকে রওনা দেন।
গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক দর্শক জানান, পেহেলী ভৈরবীর গান শুনে দর্শকরা মুগ্ধ হন। অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে সবাই শোকাহত হয়ে পড়েন।
পেহেলী ভৈরবীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহশিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন। শিল্পী মুন ও এসকে সুমনসহ অনেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাইফুল ইসলাম, সিলেটের ফাইজা, সপ্তম রায় প্রিতম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবুল হোসেন, সিলেটের আরমান, কুমিল্লার সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের রুবেল সূত্রধর।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান জানান, নিহত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলামও নিহত হয়েছেন। তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সিলেট ভ্রমণে এসেছিলেন। ফেরার পথে বাস দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে নিহত সপ্তম রায় প্রিতম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপর বৃদ্ধ মা ও বোনের সংসার চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts