নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়ার পরও নিজেদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিও সরকারের কোনো সমর্থন নেই।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
বুধবার নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
এর আগে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডিত পলাতক আসামি’ উল্লেখ করে তার দিল্লিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে। এছাড়া তাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে ভারতের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেন, ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বক্তব্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারকে ঘিরে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে, সেগুলোকেও ভারত সরকার সমর্থন করে না বলে জানান তিনি।
ভারতের এ অবস্থানকে আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে শেখ হাসিনার দিল্লি বক্তব্য ঘিরে ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।