নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১৮০ দিনের জন্য বিশেষ শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তির প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে ১৮০ দিনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হবে।
সরকারের ধারণা, এ সুবিধার ফলে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতিজনিত জনভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে। উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতিও কমতে পারে। এতে বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সরকার।
এদিকে বাংলাদেশে হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি চুক্তি সইয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।
বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হংকং বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পোশাক, বস্ত্রসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন।
চুক্তিটি দুই পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর। তবে চুক্তি সইয়ের তিন বছর পর উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এটি সংশোধন করতে পারবে। এ সংক্রান্ত বিধান খসড়া চুক্তিতে রাখা হয়েছে।